in , , ,

হিমালয়ে নেপালি বিমান দুর্ঘটনা, ২২ জন যাত্রী মৃত

হিমালয়ে নেপালি বিমান দুর্ঘটনা, ২২ জন যাত্রী মৃত

নেপালের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তারা মঙ্গলবারের মধ্যে হিমালয় পর্বতের বিমান দুর্ঘটনা এর স্থান হতে সমস্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। ২২ জনকে বহনকারী টুইন-প্রপেলার বিমানটি টেকঅফের কিছুক্ষণ পরেই নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এই সন্ধান পাওয়া যায়।

নেপালের প্রত্যন্ত মুস্তাং জেলার জোমসম শহরের কাছে একটি পাথুরে ঢালের সাথে ধাক্কা লেগে বিমানটি ভেঙে পড়ার পরে কর্তৃপক্ষের কোনও জীবিত প্রানের খোঁজ পাওয়ার আশা ছিল না। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে চূড়ান্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে।

কাঠমান্ডু-ভিত্তিক ক্যারিয়ার তারা এয়ারের মতে, বিমানটিতে ৪ জন ভারতীয় নাগরিক, ২ জন জার্মান এবং ১৩ জন নেপালি, তিনজন ক্রু সদস্যও ছিল। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, DHC-6-300 টুইন অটার মধ্য নেপালের একটি পর্যটন কেন্দ্র পোখারা থেকে জোমসোমের দিকে উড়ছিল যখন এটি ১৪,৫০০ ফুট উঁচুতে একটি পাহাড়ের ধারে আঘাত হানে।

সোমবারে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নারায়ণ সিলওয়াল টুইটারে ক্র্যাশ সাইটের একটি ছবি পোস্ট করেছেন যাতে পাহাড়ের মুখটি যাত্রীদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র এবং ধ্বংসাবশেষে বিচ্ছুরিত দেখায়, যার মধ্যে তারা এয়ার বিমানের নম্বর 9N-AET সবুজ অক্ষরে প্রদর্শন করা একটি ভাঙা ডানা রয়েছে।

কিছু ছবিতে দেখা যাচ্ছে উদ্ধারকর্মীরা ঘন কুয়াশার মধ্যে ধ্বংসাবশেষের ভেতরে গিয়ে খোঁজ করছেন। রবিবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান স্থগিত ছিল এবং দুর্ঘটনাস্থলটি শুধুমাত্র সোমবার পাওয়া গেছে।

নরেন্দ্র শাহী, একজন পর্বতারোহন গাইড যিনি অনুসন্ধান দলের অংশ ছিলেন, বলেছেন যে হঠাৎ বৃষ্টি সহ ঘন ঘন পরিবর্তনশীল এবং “চ্যালেঞ্জিং” আবহাওয়ার কারণে প্রচেষ্টাটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

“বিমানটি এবং তার ভেতরের মৃতদেহ – সবকিছু কয়েক অংশে ভাঙা পাওয়া গেছে,” তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের জায়গায় মৃতদেহগুলিতে পোড়ার কোনো চিহ্ন নেই।

রোববার সকাল ৯:৫৫ তে মধ্য নেপালের পোখরা থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি নিখোঁজ হয়, যা প্রায় ২০ মিনিট পর তিব্বতের সঙ্গে নেপালের সীমান্তের কাছে জোমসোমে অবতরণ করার কথা ছিল। বিমানটি সকাল ১০:০৭ টায় জোমসম বিমানবন্দরের সাথে শেষ যোগাযোগ করেছিল, তারা এয়ার জানিয়েছেন।

এয়ারএশিয়ার আগের নিরাপত্তা প্রধান এবং ইন্ডিগোর প্রধান পাইলট প্রশিক্ষক অমিত সিং বলেছেন, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর কাছে বিমান রুটে নেভিগেশন এইড রয়েছে যা উন্নত যন্ত্রে সজ্জিত আধুনিক বিমানগুলিকে গাইড করে, কিন্তু জোমসোমের উত্তরের রুটে পাইলটদের নিজস্ব দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে নিজ হাতে বিমান চালাতে হয়। পাইলটরা যদি এলাকা দেখতে না পান তবে তাদের ফিরে যাওয়ার কথা, সিং আরও বলেছেন, তবে এলাকায় হঠাৎ মেঘ প্রকট হতে পারে এবং পাইলটরা কখনও কখনও প্রোটোকল অনুসরণ করে না কারণ তারা একটি নির্ধারিত ফ্লাইট সম্পূর্ণ করার চাপের মধ্যে থাকে।

তারা এয়ার সহ নেপালি এয়ারলাইন্সগুলির সুরক্ষা রেকর্ড তেমন ভাল নয়। এর আগেও ২০১০, ২০১২ এবং ২০১৬ শালেও তারা বাদেও নেপালি এয়ারলাইন্স আগ্নি অ্যাইরের বিমান দুর্ঘটনা এর স্বীকার হয়ে থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন, জাতিসংঘের একটি সংস্থা, ২০১৭ সালে নেপালের বেসামরিক বিমান চালনা শিল্পের নিরীক্ষা করেছে এবং দেখেছে যে দুর্ঘটনার তদন্তে দেশটি বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে কম স্কোর করেছে। নেপালি এয়ারলাইনগুলকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আকাশে উড়তে নিষেধ করা হয়েছে কারণ সেখানে “এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা তদারকির অভাব”।

What do you think?

Written by Nadia Farha Mubin

Leave a Reply

Your email address will not be published.

বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইটে হাতাহাতি, লন্ডনে ৭ যাত্রী আটক

বিমান বাংলাদেশ ফ্লাইটে হাতাহাতি, লন্ডনে ৭ যাত্রী আটক

ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিমানে মাঝ আকাশে বিয়ে!

ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিমানে মাঝ আকাশে বিয়ে!